অপকর্মের বিচার ঠেকাতে সংসদে অভিশংসন

প্রকাশ:| সোমবার, ২৫ আগস্ট , ২০১৪ সময় ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সরকার যে অপকর্মগুলো করেছে তার যাতে ভবিষ্যতে বিচার না হয় তাই তারা বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে নিচ্ছে।’
খালেদা জিয়া
সোমবার রাতে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই। আসলে আওয়ামী লীগ মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখতে চায়। কারণ তারা অপকর্ম করলে মানুষ তা বলবে।’

তিনি বলেন, ‘এজন্যই তারা তথ্য অধিকার আইনের নামে পেপার পত্রিকা বন্ধ করে দিতে চায়। টিভি বন্ধ করে দিতে চায়। যাতে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে না পারে।’ ‘দেশের উন্নয়নের দিকে সরকারের কোনো নজর নেই’ বলে অভিযোগ করেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র উত্তরাঞ্চল নয়, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। দেশের উন্নয়নের দিকে এ অবৈধ সরকারের কোনো নজর নেই। তারা গুম-খুন আর লুটপাটে ব্যস্ত।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে দুই রকমের আইন রয়েছে। আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের আর বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের জন্য আরেক ধরনের আইন। টাকার বিনিময়ে তারা মানুষ খুন করছে। তাতেও তারা সন্তুষ্ট হয়নি। তাই বিচারকদের অভিশংসনকে তারা সংসদে নিয়ে আসছে। বিচারকরা যাতে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে তাই তারা ইমপিচমেন্টকে সংসদে নিচ্ছে। তারা যে অপকর্মগুলো করেছে তার যাতে ভবিষ্যতে বিচার না হয় তাই তারা এ কাজ করছে।’

৭৫ সালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৭৫ সালে বাকশালের নামে চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সবগুলো পত্রিকা বন্ধ করে দেয় শেখ মুজিব। এখনো তারা তাই করতে চায়। কিন্তু জনগণ তা করতে দেবে না।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘তাদের অপকর্মের কারণেই আজ দেশের এ অবস্থা। তারা ভোটে আসেনি। তারা এসেছে ভাগ ভাটোয়ারার মধ্য দিয়ে। আমাদেরও বলেছে নির্বাচনে আসতে। আমরা আসিনি। কারণ বিএনপি ভাগ বাটোয়ারায় বিশ্বাস করে না। আমরা আসিনি বলে তারা ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে নিজেদের ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করে নিয়েছে। ১৫১ জন হলেই তো সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়। তারা আরো বেশি নিয়ে নিয়েছে। তারা লোভী। জনগণ তা জানে।’

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘গত দশ বছর ধরে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয় না। এখানে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই।’