অনুকরণীয় হয়ে থাকবে আলী হায়দার

প্রকাশ:| শনিবার, ২৩ মে , ২০১৫ সময় ১১:২২ অপরাহ্ণ

দৈণিক বণিক বার্তার ব্যুরো চিফ ও বিশেষ প্রতিনিধি শেখ আলী হায়দার সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তার স্মৃতিচারণ করতে আসা বক্তারা।
অনুকরণীয় হয়ে থাকবে আলী হায়দার
শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মোহাম্মদ সেকান্দার খান বলেন, ‘আলী হায়দারের মাঝে কোন আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। অনেকই সহজভাবে সব কিছু বলতে পারতেন না। কিন্তু আলী হায়দার সব বিষয় সহজেই সব বলে ফেলতেন। শ্রমিকদের পক্ষে মালিকদের বিরুদ্ধে ছাত্র অবস্থা থেকে তিনি ছিলেন স্বোচ্চার। পড়া লেখা শেষেও প্রতিটি কর্মকান্ডে তার এবং আমাদের মাঝে একটা সহমর্মিতা ছিল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি আমার কাছে আসতেন। অর্থনীতির পাঠ নিয়ে বাস্তবতাকে মিলাতেন। আলী হায়দারের স্মরণ সভায় এত মানুষ দেখে আমরা আনন্দিত। তাঁর মতো মানুষ বর্তমান সমাজে বিরল। আজকে আমরা প্রদর্শনিতে ব্যস্ত। কিন্তু আলী হায়দার এসবে বিশ্বাসী ছিলেন না।’

স্বাগত বক্তব্যে দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘পত্রিকা শুরুর দিকে আলী হায়দার ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয়। বাণিজ্যিক পত্রিকা হিসেবে চট্টগ্রামকে আলাদা গুরুত্ব দেয়া হয়। তখন হায়দার ভাইয়ের সাথে আমাদের যোগ করা হয়। সেই থেকে তিনি ছিলেন বণিক বার্তা পরিবারের জৈষ্ঠ কর্মকর্তা। আমৃত্যু তিনি বণিক বার্তাকে সহযোগিতা করে গেছেন। বণিক বার্তার প্রতি তার ভালবাসা ছিল অকৃত্রিম। জীবনের বড় একটা অংশ তিনি চট্টগ্রামে কাটিয়েছেন। বাগেরহাট থেকে এসে চট্টগ্রামের প্রতি তার ভালবাসায় আমরা অভিভ’ত।’

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বণিক বার্তাকে ধন্যবাদ জানাই, আমাদের আলী হায়দার নিয়ে এই আয়োজনের জন্য। সা¤্রাজ্য ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার ছিলেন তিনি। শ্রেণী বৈষম্য, বঞ্চনার জন্য লিখতেন। সাধরণ জীবনের এই মানুষটির কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস’র প্রতিটি বিষয় নিয়ে তিনি দারুণভাবে লেখালেখি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করে শ্রমিক হিসেবে স্টিলে মিলে চাকুরি। পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকতায় এসে সেখানেও সফল তিনি। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সফলভাবে কাজ করে গেছেন।’

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউছুফী বলেন, ‘আলী হায়দার সকল শ্রেণী মানুষের প্রিয় ছিল। যা তার স্মৃতি সভা প্রমাণ করে। স্টিল মিলে চাকুরির পর সাংবাদিকতা শুরু করে অল্প দিনেই তিনি চট্টগ্রামে অনেক ভালো ভালো রিপোর্ট করেছেন। যা সারা দেশে আলোচিত হয়েছে। তিনি ছিলেন নির্লোভ একজন সাংবাদিক। বণিক বার্তা একটি বাণিজ্যিক পত্রিকা হয়েও প্রচার ও তার গুনগত মান নিয়ে যে একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে তাতে আলী হায়দারের অবদান অতুলনীয়। চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, বিমান বন্দরসহ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেখালেখি করছেন তিনি। তিনি যেই মতে বিশ্বাস করতেন আমৃতু তিনি ওই বিশ্বাসে অটল ছিলেন।’

‘সর্বশেষ টিভি জার্নালিস্টদের একটি ঘেরাও কর্মসূচীতে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে যেভাবে বক্তব্য দিয়েছিলেন তাতে আমরা অবাক হয়ে যায়। বণিক বার্তা ব্যুরো অফিসে যেই পরিবেশ তিনি দিয়ে গিয়েছেন তা আমাদের সাংবাদিক সমাজের জন্য অনুকরণীয়।’ বলেন এ সাংবাদিক নেতা।

11খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রামে চেম্বারের পরিচালক সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, ‘আলী হায়দার চট্টগ্রামের বাইরের মানুষ তা আমি জানতাম না। তার মৃত্যুর পর জানতে পারি, তিনি চট্টগ্রামের লোক নন। তার কোন লোভ ছিল না। তিনি সব সময় চট্টগ্রামের সমৃদ্ধি নিয়ে ভাবতেন। চট্টগ্রামের সমস্যা নিয়ে লিখতেন।’

সুপ্রভাত বাংলাদেশের নগর সম্পাদক এম নাসিরুল হক বলেন, ‘বণিক বার্তাকে ধন্যবাদ। ব্যুরো চিফকে নিয়ে এই রকম একটি আয়োজনের জন্য। আলী হায়দারের জীবনের ৫৭ বছরের ৭ বছর কাটিয়েছেন আমাদের সাথে। এই সময়ে তার সাথে আমাদের কোন মনোমালিন্য হয়নি।’

আলী হায়দারের ভাই ও ন্যাশনাল পলিমারের পরিচালক এস কে মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আলী হায়দারের মতো একজন সাংবাদিক-লেখক নিয়ে স্মৃতি চারণ করার প্রস্তুতি আমাদের ছিল না। তিনি কমপক্ষে আরো ২০ বছর দেশের জন্য কাজ করে যেতে পারতেন। তার জীবনের প্রথম তৃতীয়ার্ধ্ব (১৭ বছর) বাগের হাট কেন্দ্রিক। বাকি চল্লিশ বছর চট্টগ্রামে ব্যয় করেছেন। তার শৈশবে কাউকে কষ্ট দেয়নি। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ক্লাসে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাকি চল্লিশ বছরে চট্টগ্রামের জন্য উৎসর্গ করেছেন। কৃষক-শ্রমিক মেহনতী মানুষ এমন কোন শ্রেণী ছিল না যাদের সাথে তাদের সখ্যতা ছিল না। তিনি কখনো প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে ভাবতেন না। যা সত্য তা নির্দিধায় বলতেন। কারো চোখ রাঙানিকে ভয় পেতেন না।’

‘তিনি সব সময় মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা বলতেন। বাগের হাট অঞ্চলের একজন লোক চট্টগ্রামে এসে এমনভাবে মিশে গিয়েছিলেন হয়তো অনেকেই জানতেন না তিনি চট্টগ্রামের লোক নয়। তিনি চট্টগ্রামে লোক। আপনাদের লোক। আপনাদের কাছেই জীবিত থাকবে যুগ যুগ ধরে।’

সভায় আলী হায়দারের জীবনী পাঠ করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক তাহের। আলী হায়দারের প্রতিকৃতি তার স্ত্রী’র হাতে তুলে দেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

বণিক বার্তা পরিবারের আয়োজনে এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাপান’র অনারারি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিমুদ্দীন শ্যামল, এক্সিম ব্যাংক’র ইভিপি ও খাতুনগঞ্জ শাখার ম্যানেজার এস এম আবু জাকের, গ্রীণনিউজবিডিডটকমের সম্পাদক নুরুল আফছার মজুমদার স্বপন, আলী হায়দারের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম, বন্ধু সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ, পরিবহণ শ্রমিক নেতা ছিদ্দিকুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতা মামুন, শ্রমিক নেতা খায়রুল আলম সুজন, শ্রমিক নেতা খোরশেদ প্রমুখ।


আরোও সংবাদ