অনলাইন নীতিমালা : লাইসেন্স ফি নয়, লাইসেন্স ও ঋণ দিন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:০৬ অপরাহ্ণ

এম.আলী হোসেন
বুক ভরা আশা নিয়ে যারা অনলাইন নিউজপেপার সম্প্রচার করে আসছিল তারা সরকারের ডিজিটাল নীতিতে অতি উৎসাহী ছিলেন।ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ওবাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তফা আবদুল জব্বার সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তারা সরল-মনে তা বিশ্বাস করেছিলেন কিন্তু হঠাৎ বুকে ব্যথা লেগেছে যখনই শুনেছে অনলাইন নিউজপোর্টালের লাইসেন্স নিতে ৫ লাখ টাকা লাগবে।লাগবে রিনিউ ফি,আর্নেস্টমানি. উচ্চতর ডিগ্রি ও জাতীয় পত্রিকার অভিজ্ঞতার সনদ।

গত এক সপ্তাহ ধরে অনলাইন মিডিয়া,ফেইসবুকে এমনকি প্রিন্ট
মিডিয়ায় অনলাইন নীতিমালা নিয়ে নানান কানাঘুষা ও গুজবের
ডালপালা বাতাসে বইছে।অনেক গরীব ঘরের সৃজনশীল মেধাবী
ছেলেটি চিন্তা করতে পারছে না কোথায় পাবে ৫লাখ টাকা।অথচ
সেই ছেলেটির সেই নিউজপোর্টালটির জনপ্রিয়তা রয়েছে সেই
এলাকায় আকাশচুম্বী।সেই নিউজসাইটের কারনেই তার পরিচিতি
যেমন বেড়েছে,সেই নিজেও আত্তবিশ্বাসী হয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ
গড়ার স্বপ্ন লালন করেছে।সম্প্রতি মোস্তফা আবদুল জব্বারের খসড়া নীতিমালা পড়ে ও বনপার সভাপতির দৃঢ়চেতা মনোভাব দেখে এবং মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর অনলাইন মিডিয়ার প্রতি সুনজর দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই নিউজপোর্টাল সম্পাদকদের নয়া করে ভাবতে শুরু করেছে।বনপার সভাপতি শামসুল আলম স্বপন বলেছেন মাননীয় তথ্যমন্ত্রী অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোকে অত্যন্ত সুনজরে দেখছেন।তথ্যমন্ত্রী ঠিকই বুঝেছেন অনলাইন দুনিয়ায় এখন আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি।এখনের খবর মানুষ কেন পরে শুনবে?তাজা মাছের রান্না আর বাসী মাছের গন্ধ কে না বুঝে? মুহুর্তের খবর মুহুর্তে পেলে কেউ কি আর কালকের জন্য বসে থাকবে? অনলাইনের গুনগান শুনেছিলাম বই মেলার আলোচনা সভায় মোস্তফা জব্বার সাহেবের ভাষনে।সেই ভাষনের পরে আমি প্রিন্ট মিডিয়া ছেড়ে অনলাইনে ঢুকি। অনলাইনে লাভ কি,কারা কতটুকু গুরুত্ব দেবে সেইসব বাদ দিয়ে শুধু ভবিষ্যত নিয়ে সাহসী মনে বাংলাপোস্টবিডি.কম সম্প্রচার করতে থাকি।এখানে ঢুকেই বুঝেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বংলাদেশের সুবিধাগুলো কারা লুটেপুটে ব্যবহার করছে।রাজনীতির দিকে আমি আলোচনায় যাব না।শুধু বলব তথ্য মন্ত্রণালয় প্রগতিশীল সৃজনশীল সম্পাদকদের দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের সহায়তা নিতে পারে। সহায়তা নিতে পারে ২০২১কিংবা ২০৪১ ভিশন বাস্তবায়নে।

শুনেছি,তথ্যমন্ত্রী সেইদিকে এগুচ্ছে। চট্টগ্রাম অনলাইন নিউজপেপারএডিটর এসোসিয়েশন করতে গিয়ে আমি অনেক অনলাইন সম্পাদকের অফিসে গেছি।কথা বলেছি অনেকের সাথে।দুঃসাহসী,অদম্য উৎসাহীও স্বপ্ন লালনে-পালনে ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ করার মানুষগুলোই লোকসান দিয়েও সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা না নিয়েও অনলাইনে দিনকে দিন আপডেট দিচ্ছে।যারা আত্মকেন্দ্রিক, যেখানে সেখানে লাভ খুঁজে কিংবা ব্যবসায়ী মনের মানুষগুলো এখানে নেই বললেও চলে।কিন্ত এটাও দেখেছি,কতগুলো লোক নিজেদের কালো টাকা সাদা করার জন্য,দুনম্বরী ব্যবসা জায়েজ করার জন্য অনলাইন পোর্টাল চালালেও ডিজিটাল বংলাদেশের স্বপ্ন তাদের মাথায় নেই।কেন নেই এটা পাঠকেরাই ভাল বুঝেন।এসব লেকেরা চাইবে ৫ লাখ নয়, কোটি টাকা দিয়ে হলেও লাইসেন্স চাইবে।এই লাইসেন্স তারা মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাবে।এই কথাগুলো মাননীয় তথ্যমন্ত্রীকে ভাবতে হবে।

এখন আসি একটি প্রস্তাবে।বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ব্যাংক আছে।অসংখ্য ব্যাংক আছে যারা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা খুঁজছে।উপযুক্ত ঋণগ্রহীতা না পেলে ব্যাংক বিপদে পড়ে আর সঠিক ঋণগ্রহীতা পেলে দুপক্ষেই লাভবান হয়।আমি মনে করি লাইসেন্স ফি নয় বরং লাইসেন্সও দিন,দিন ঋনও।প্রশ্ন আসতে পারে এটা কেমন কথা হল।যদি বলি যারা ১/২/৩ বছর ধরে সরকারী কোন সুযোগ-সুবিধা ছাড়া নিজেদের টাকা লোকসান দিয়ে অনলাইন সম্প্রচার করেছে তারা পালিয়ে যাওয়ার লোক নয়।এসব পোর্টালের মানুষগুলো দূরদর্শী চিন্তা চেতনার ধারক-বাহক।এলাকায় এলাকায় রয়েছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা।তারা যদি একটু অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা পায় তারা সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রচার-প্রকাশনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে নিতে পারবে।সব নিউজপোর্টালের সম্পাদকেরা ঋণ নিবে না।যারা নিবে তারাও ভেবে-চিন্তে নেবে। লাইসেন্স ফি এর মাধ্যমে মাএ ১-২ কোটি সংগ্রহ না করে বরং ৫-১০ কোটি টাকা অনলাইনে নিউজপোর্টাল বিনিয়োগ করলে তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ শতবছর এগিয়ে যাবে।

সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারগুলো রুখে দেবে এসব নিউজপোর্টালগুলো।সরকারের উন্নয়ন,উন্নতি,ভবিষ্যত পরিকল্পনা,গবেষণামূলক প্রস্তাব প্রদানে ঐসব পোর্টালগুলো কাজ করতে পারে। অনলাইনের ভিজিটর কিংবা পাঠক কারা?যারা তরুণ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা।সমাজের সচেতন মহল।যাদের হাতে মোবাইল,বাসায় ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপ আছে তারাই অনলাইনে থাকে।শুধু তথ্য সম্প্রচারে সরকারের এই কৌশলে বিনিয়োগ করা লাভজনক নাকি কালো টাকার মালিকদের লাইসেন্স দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগদের নিরুৎসাহিত করা দরকার তা সরকারকে ভাবতে হবে। ভাবার সময়ও এখন।গোটা দেশে অনলাইন নীতিমালা নিয়ে একটি মহল কালো টাকার মালিকদের পক্ষে কাজ করছে।ওদেরকে চিনে রাখুন।ওদের চিন্তা চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশের গতি প্রকৃতি কেমন হবে তাও ভাবতে হবে। লেখক: এম.আলী হোসেন সম্পাদক www.banglapostbd.com ও সভাপতি চট্টগ্রাম অনলাইন নিউজপেপার এডিটর এসোসিয়েশন (conea).