অনলাইন নীতিমালা ও আমাদের ভাবনা শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:১২ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক>>
nc74অনলাইন নীতিমালা ও আমাদের ভাবনা শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর এনআইটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামের অনলাইন জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল নিউজচিটাগাং২৪ডটকম এ গোলটেবিলের আয়োজন করে। নিউজচিটাগাং২৪ডটকম এর নির্বাহী সম্পাদক মির্জা ইমতিয়াজ শাওন এর সঞ্চালনায় ও এনআইটির চেয়ারম্যান আহসান হাবীব এর সভাপতিত্বে গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অথিতি ছিলেন অধ্যাপক শামসুদ্দিন শিশির।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাপোষ্টবিডিডটকম এর সম্পাদক এম. আলী হোসেন, সিটিজিটাইমসডটকম এর সম্পাদক মসরুর জুনাইদ, বিডিনিউজটাইমসডটকম এর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন,মো. শেখ রেজাই রাব্বী, প্রেসবার্তাডটকম এর চিফ রিপোর্টার শরীফুল ইসলাম রুকন, লেখক ও সংগঠক কাজী জাহাঙ্গীর, আলী আজম, কবি জুয়েল বড়ুয়া বাপ্পু, সৈয়দ আরাফাতুল আলম, কাজী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান,নুরুল ইসলাম সবুজ, মোহাম্মদ তাজউদ্দীন (জেমী)।

প্রেসবার্তাডটকম এর চিফ রিপোর্টার শরীফুল ইসলাম রুকন বলেন, “অনলাইন পত্রিকার অপ্রতিরোধ্য বিকাশই কাল হয়ে উঠেছে। অনলাইন পত্রিকায় কোনো একটি খবর প্রকাশ পেলে তা দ্রুতই এর লক্ষ-কোটি পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। অনলাইন পত্রিকার এই গতিকে মেনে নিতে পারছেন না কেউ কেউ। তাই নীতিমালার অজুহাত তুলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অনলাইন পত্রিকার জ্যামিতিক বিস্ফোরণকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসতে চাইছে তারা।”

বিডিনিউজটাইমসডটকম এর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, “এই মূহুর্তে দেশে যে প্রায় ২শ টির মতো অনলাইন পত্রিকা রয়েছে তার ৩/৪টির পেছনে বড় পুঁজির বিনেয়োগ রয়েছে। বাকি প্রায় সব পত্রিকার পেছনের পুঁজি কেবলই তারণ্যের শক্তি-প্রযুক্তিরটান-সৃজনশীলতা। নীতিমালার নামে অনলাইন পত্রিকা বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে।”

সিটিজিটাইমসডটকম এর সম্পাদক মসরুর জুনাইদ বলেন, “অনলাইন পত্রিকার জন্য একটি নীতিমালা তৈরি হবে, আমি তার পক্ষে। আমিও মনে করি একটি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছিল সকল অনলাইন গণমাধ্যম বাংলাদেশে স্থাপিত সার্ভারে হোস্টিং করতে হবে। বাংলাদেশে হোস্টিং খরচ হোস্টগ্যাটর বা অন্যন্য জনপ্রিয় হোস্টিং প্রোভাইডারের চেয়ে ২০-৩০ গুন বেশি, এই অতিরিক্ত ভর্তুকিটা কি সরকার দেবে? তাছাড়া দেশের হোস্টিংগুলোর মান যাচ্ছেতাই মানের, নিম্নগতির ও অপেক্ষাকৃত কম নিরাপদ।”

তিনি আরো বলেন, “আঞ্চলিক অনলাইন পত্রিকাগুলো ঢাকার অনলাইন পত্রিকাগুলোর মতো বিজ্ঞাপন পাবে না। তাই মফস্বল থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকাগুলোর জন্য আলাদা নীতিমালা করা দরকার।”

বাংলাপোষ্ঠবিডিডটকম এর সম্পাদক এম. আলী হোসেন বলেন, “দেশ-বিদেশের খবর জানতে মানুষ অনলাইন পত্রিকার ওপরই আজকাল ভরসা রাখছে বেশি। অজপাড়া গাঁয়ে আজকাল অনলাইন পত্রিকা চালু হচ্ছে। পত্রিকাগুলো গ্রামকে দেশ-বিদেশের সংগে যুক্ত করছে। সেই অনলাইন পত্রিকার খবরের সূত্র ধরেই গ্রামের অবকাঠামো, শিক্ষা এবং বাণিজ্যিক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু অবাস্তব অনলাইন নীতিমালা করা হলে, মফস্বল থেকে প্রকাশ হওয়া অনলাইন পত্রিকাগুলোর পক্ষে ৫ লাখ টাকা যোগাড় করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।”

তিনি আরো বলেন, “অনলাইন পত্রিকাগুলোর জন্য নীতিমালা করার জন্য তথ্যমন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটির আহবায়ক মোস্তফা জব্বার স্যার আমাকে আশ্বস্ত করেছেন মফস্বলের পত্রিকাগুলোর দিকে আলাদা দৃষ্ঠি রেখে নীতিমালা করা হবে।”

নিউজচিটাগাং২৪ডটকম এর নির্বাহী সম্পাদক মির্জা ইমতিয়াজ শাওন বলেন, অনলাইন গণমাধ্যম এখনো টাকা কামানোর মেশিন হয়ে উঠতে পারেনি বা এমন উদ্দেশ্যও অনেকের নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অলাভজনকভাবে কিছু সম্ভাবনাময় সৃজনশীল তরূন সাংবাদিক-লেখককে নিয়ে পজেটিভ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। অনেকে কাজ শিখছে -পার্ট টাইম কাজ করে কিছু রোজগার করছে। বাড়ছে সিটিজেন সাংবাদিকতার মতো অনেক নুতুন কর্ম পদ্ধতি। বেশিরভাগ স্থানীয়ভাবে চলছে, নিজের বিভাগ- জেলা বা উপজেলাকে তুলে ধরার জন্য, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশীরা উপকৃত হচ্ছেন। জেলা ও বিভাগীয় শহরের অনলাইন মাধ্যমগুলোর লাভ তো দূরে থাক খরচের টাকা ও উঠেনা, এরা কিভাবে ৫ লাখ টাকা সরকারকে দিবে, কেন দিবে?

তিনি আরো বলেন, অনলাইন পত্রিকাগুলোর একটা শ্রেণীবিন্যাস করা দরকার। দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউজ পোর্টালগুলেকে প্রথম ধাপে, বিভাগীয় পর্যায়ের নিউজসাইটগুলো দ্বিতীয় ধাপে ও জেলা পর্যায়ের নিউজসাইটগুলোকে তৃতীয় ধাপে,বিশেষায়িত নিউজসাইটগুলোকে ৪র্থ ধাপে,উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের নিউজসাইটগুলোকে ৫ম ধাপে ফেলে নীতিমালার মধ্যে পৃথক বিধান রেখে তা প্রণয়ন করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নিউজসাইটগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে ৫লাখ টাকা দিয়ে লাইসেন্স নেওয়া মফস্বলের নিউজসাইটগুলোর পক্ষে একেবারে অসম্ভব। এছাড়া আনলাইন টিভি ও রেডিওকে আলাদা ক্যাটাগরীতে রাখা/যে নিউজসাইটগুলো তা পরিচালনা করবে তাদের জন্য অন্য ধরনের শর্ত প্রয়োগ হতে পারে। নীতিমালা তৈরি হবে,তা হবে যুগোপযুগী ও প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশের সহায়ক শক্তি, আমি তার পক্ষে। একটি যথাযথ নীতিমালার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে।

অধ্যাপক শামসুদ্দিন শিশির বলেন, “ছাপা পত্রিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন শঙ্কা দেখা দিচ্ছে, তখন জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে অনলাইন পত্রিকার সম্ভাবনার কথা। আমি আগে মনে করেছিলাম ২০২০সাল নাগাদ বাংলাদেশে অনলাইন পত্রিকার জয়জয়কার হবে। কিন্তু এখন দেখছি অনলাইন পত্রিকা একটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে, এইসব বিষয় মাথায় রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, সেটাই কাম্য।” এবং সরকারকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সব নিউজসাইট সহায়তা করবে এমনটায় প্রত্যাশা। এ ছাড়াও নিউজসাইট এর সমাজের প্রতিদায়বদ্ধতা মাথায় রেখে ভালো সংবাদগুলো বেশি বেশি তুলে আনতে হবে।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে এনআইটির চেয়ারম্যান প্রযুক্তিবিদ আহসান হাবীব বলেন সবাইকে ধন্যবাদ। যথাযথ নীতিমালার মাধ্যমে নিউজসাইটগুলো এগিয়ে যাবে। সংবাদ পরিবেশনের পাশিপাশি শিক্ষা প্রযুক্তি প্রসারে কাজ করে যাবে।

এর পর মুক্ত আলোচনায় লেখক ও সংগঠক কাজী জাহাঙ্গীর বলেন আমরা অনেক আনন্দিত যে আমাদের নিউজসাইটগুলো অনেকি এগিয়েছে এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাক। তারা যে অর্থ উপার্যনের বিষয়কে তেমন প্রধাণ্য দিচ্ছেনা এটাই দৃষ্টান্ত ও আচাশ্চার্যজনক ভালো।
কবি জুয়েল বাপ্পু বলেন আমাদের প্রত্যাশা হলো নিউজসাইটগুলো যেন অতিবাণিজ্যিক না হয়ে যায়। তারা যেন সৃজনশীল বিষয়গুলোকে আরো বেশি করে তুলে আনে।