অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত

প্রকাশ:| রবিবার, ৬ জুলাই , ২০১৪ সময় ১১:০৫ অপরাহ্ণ

৯২তম জন্মদিনের আলোচনা সভায় বক্তারা
১
৯২তম জন্মদিনের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মহালগ্নে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাংবাদিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা গেলেই অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের মতন মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিক ও সৎ সাহসী সাংবাদিকের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
বক্তারা আরো বলেন, ষাটের দশকে অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ যখন ‘দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক সেই দশকটা রাজনৈতিক, সাংবাদিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলা এবং সংগঠিত করার কাল। তিনি সম্পাদক হিসেবে এবং সংবাদপত্রের ভূমিকাকে সচেতনভাবে কাজে লাগিয়ে দেশমাতৃকাকে পাকিস্তানী হায়েনার ছোবল থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন। সেই সুবাদেই তাঁর দূরদর্শী এবং বিচক্ষণ পরিচালনায় সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তারই সূত্র ধরে এবং রাজনীতি মনস্কতায় তিনি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছিলেন একাত্তরে।
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক ও অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে গতকাল ৬ জুলাই রবিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তারা উপর্যুক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।
পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মুহাম্মদ ওসমান গণি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর হাছিনা জাকারিয়া বেলা ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি কবি এজাজ ইউসুফী, প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মহসিন চৌধুরী, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল হাশেম, ব্যাংক এশিয়ার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোসাঙ্গীর বাচ্চু, লায়ন ডা. আবদুল্লাহ আল হারুন, চসাই সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি নাজিমুদ্দিন শ্যামল, চ্যানেল আই বিভাগীয় প্রতিনিধি সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ, চসিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহিম, শিক্ষাবিদ ও আওয়ামী লীগ নেত্রী বৃজেট ডায়েস, রাজনীতিক দীপংকর চৌধুরী কাজল, স্বপন সেন, অধ্যাপক শামসুদ্দিন শিশির, পরিষদের অর্থ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আসফাক আহমেদ, সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আকবর, অধ্যাপক মুছা কলিমুল্লাহ, ইফতেখার মারুফ, শিল্পী শওকত জাহান, আসাদুজ্জামান খান, মুহাম্মদ হাসান মুরাদ চৌধুরী, এসএম মোরশেদ হোসেন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মঈনুদ্দিন কাদের লাভলু, সাব্বির হোসাইন, মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, আসাদুজ্জামান জেবিন, মোহাম্মদ মোরর্শেদ আলম বাবলু, মাউসুফ উদ্দিন মাসুম, ইকবাল মুন্না, রাসেল দে, কামাল উদ্দিন চৌহানী, মইদুল ইসলাম, চৌধুরী আহছান খুররম, আকরাম হোসেন মাসুদ প্রমুখ। অধ্যাপক খালেদকে নিবেদিত ছড়া পাঠ করেন তালুকদার হালিম। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ জন্মদিন উদ্যাপন উপ কমিটির আহবায়ক মো. মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য সচিব এটিএম শহীদুল্লাহ শহীদ। পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ তনয় স্লোগান সম্পাদক মোহাম্মদ জহির। অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন কদম মোবারক জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবুল কাশেম।
প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বে এবং সংগ্রামকালে এ দেশের সাংবাদিকরা সংবাদপত্রের পাতায় এবং রাজপথে যে অসম সাহসিক ভূমিকা পালন করেছেন, তা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সেই প্রবল শক্তিশালী সাহসী পুরুষদের অন্যতম, সুশিক্ষিত, বিনম্র, রুচিশীল মানসিকতার বলিষ্ঠ পুরুষ হিসেবে বীরভোগ্যা সমুদ্র চট্টলায় সেই সময়ে বলিষ্ঠ শাসক দস্যুদলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সংবাদে, সংসদে, সাংবাদিকতায়, রাজনীতিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাই সাংবাদিকতা পেয়েছিল সুমহান উচ্চতা, গর্ব-গৌরব।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ওসমান গণি চৌধুরী বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্বাধীনতা সংগ্রামী মহাত্মা পুরুষ। তাঁকে মরণোত্তর একুশে অথবা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে বর্তমান সরকার প্রশংসার দাবিদার হতে পারেন। এটি চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে পরিষদ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের ৯২তম জন্মদিন উপলক্ষে পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কবর জেয়ারত, খতমে কুরআন এবং এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিল।
গতকাল সকাল ১০টায় অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের গ্রামের বাড়ি রাউজানের সুলতানপুরে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির নেতৃত্বে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবর জেয়ারত করা হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ জন্মদিন উদ্যাপন উপ কমিটির আহবায়ক মো. মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য সচিব এটিএম শহীদুল্লাহ শহীদ, সদস্য মোহাম্মদ আবদুর রহিম, শিল্পী শওকত জাহান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঈনুদ্দিন কাদের লাভলু, স্থানীয় সাংবাদিক শফিউল আলম, সংগঠক হাবিবুল জাকারিয়া রাসেল, পরিবারের পক্ষে মোহাম্মদ জহির উপস্থিত ছিলেন।