‘‘অধ্যাপক খালেদ ছিলেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী‘’

প্রকাশ:| সোমবার, ২১ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৪৪ অপরাহ্ণ

ড. আনিসুজ্জামান ২একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের জন্য জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা নতুন সংকটের সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রফেসর এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘আমরা কি এক সংকটের মুখোমুখি’ শীর্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ স্মারক বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জন্মলগ্নে বিখ্যাত মানুষদের কেউ কেউ বাংলাদেশকে বাস্কেট কেস হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু তারাই এখন একবাক্যে স্বীকার করেন যে, শিক্ষা, জীবিকা, ক্ষমতায়নসহ সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ এখন ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি যেমন ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের ৪৪ বছরের মধ্যে দেশের সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব তুলে ধরে ড. আনিসুজ্জামান বলেন, দেশকে কয়েকবার বেশ কিছু সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতা হত্যা, দু-দুবার সামরিক শাসনের সুবাদে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাদ যাওয়াসহ রাষ্ট্রিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন, সামাজিক ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা, ফতোয়াবাদ, মুক্তমনাদের হত্যা, জঙ্গিবাদের উত্থান অন্যতম।

অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। মুক্তিযুদ্ধের সময় ও এর অব্যবহিত পরের, সংবিধান প্রণয়নের সময় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের সান্নিধ্য পেয়েছি।

প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী। ড. আনিসুজ্জামানের সৃষ্টিশীল ও গবেষণাকর্ম নিয়ে বক্তব্য দেন কবি আবুল মোমেন।

বক্তব্য দেন দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউসুফী। পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের ছেলে স্লোগান সম্পাদক মোহাম্মদ জহির। সঞ্চালনায় ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।

কলিম সরওয়ার বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের মতো ব্যক্তিত্ব বর্তমান সমাজে বিরল। তিনি শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজের আলোকবর্তিকা। আর এই আলোকিত মানুষকে নিয়ে আয়োজিত স্মারক বক্তৃতায় আমরা পেয়েছি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যারকে। তার প্রাণনাশের হুমকি উপেক্ষা করে আমাদের অনুষ্ঠানে এসে আমাদের ধন্য করেছেন। তার এ হুমকির ব্যাপারে আমরা মুক্তচিন্তার মানুষগুলো শঙ্কিত।

ড. আনিসুজ্জামানের এ বক্তব্য একটি অসাধারণ দলিল হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন কলিম সরওয়ার।