অধ্যাপক এম আর খান আর নেই

প্রকাশ:| শনিবার, ৫ নভেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:০৩ অপরাহ্ণ

%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%95-%e0%a6%8f%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%87জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশের শিশু চিকিৎসার পথিকৃৎ এই চিকিৎসক শনিবার বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। এম আর খান কোমরে ব্যথা, হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি জাতীয় অধ্যাপক,বাংলাদেশের শিশু চিকিৎসার জনক হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। তিনি এ দেশের শিশুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের পথিকৃৎ। তিনি গড়ে তুলেছেন একের পর এক চিকিৎসা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। দেশসেরা এ শিশু চিকিৎসকের জন্ম ১৯২৮ সালের ১লা আগস্ট সাতক্ষীরার রসুলপুরে। ১৯৫৩ সালে এমবিবিএস পাস করেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে। তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিটিএমঅ্যান্ডএইচ, এমআরসিপি, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসিএইচ, ঢাকার পিজি থেকে এফসিপিএস, ইংল্যান্ড থেকে এফআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন। পেনশনের টাকা দিয়ে গড়েন ডা. এম আর খান-আনোয়ারা ট্রাস্ট। দুস্থ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, তাদের আর্থিক-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে এ ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি নিরন্তর কাজ করে গেছেন। তার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জাতীয় পর্যায়ের শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। গড়ে তুলেছেন সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রসুলপুর উচ্চবিদ্যালয়, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, নিবেদিতা নার্সিং হোমসহ বহু প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া তিনি দেশ থেকে পোলিও দূর করতে উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছেন, কাজ করেছেন ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান ‘আধূনিক’র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ম্যানিলা অ্যাওয়ার্ড, একুশে পদকসহ আরো অনেক পুরস্কার। প্রতিষ্ঠানতুল্য এই মানুষটির জীবনী স্থান পেয়েছে ক্যামব্রিজ থেকে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল হু ইজ হু অব ইন্টেলেকচুয়ালে। এম আর খান নামে তিনি সর্বাধিক পরিচিত হলেও তার পুরো নাম মো. রফি খান।


আরোও সংবাদ