অজ্ঞাত রোগে আরো ৪ জন অসুস্থ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১২ মে , ২০১৭ সময় ১০:১২ অপরাহ্ণ

রাঙামাটি নার্সিং ইন্সটিটিউটে আবারো দুই শিক্ষানবীস নার্স অজ্ঞাতরোগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অসুস্থ দু’জনেই দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। গুরুত্বর অসুস্থ একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার্ড করেছে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে মধ্যরাতে এই ধরনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো হাসপাতাল এলাকায়। অসুস্থ দুই শিক্ষার্থী ফাতেমা ও তানিয়া দুইজনই দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সহপাঠিরা জানায়, নামাজ পড়ার সময় হঠাৎ করেই মাথা ঘুরে পড়ে যায় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানিয়া। এসময় সাথে সাথেই তাকে তার সহপাঠিরা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক আকাই প্রু মার্মা তানিয়ার অবস্থা বিবেচনায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার্ড করেন।

তিনি জানান, মেয়েটিকে হাসপাতালে আনা হয় অজ্ঞান অবস্থায়। তার শরীরের পালস এক্কেবারেই নেই বললেই চলে। এছাড়াও তার বিপিও ছিলো অত্যন্ত কম। শ্বাস-প্রশাসের অবস্থা খারাপ দেখে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা মেয়েটিকে চট্টগ্রামে রেফার্ড করি।

উল্লেখ্য, একদিন আগেই একই প্রতিষ্ঠানে হটাৎ করেই অসুস্থ হয়ে মাহামুদা খাতুন নামে দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে সেখানে পরের দিন ভোরেই সে মারা যায়। এসময় চিকিৎসার অবহেলায় মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে অভিযোগতুলে বিক্ষোভও করেছে তার সহপাটিরা। বুধবারও এই বর্ষের আরো দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে, শিক্ষানবীস নার্সদের অভিযোগ তাদের থাকার হোষ্টেলটি অত্যন্ত নিন্মমানের। সেখানে তাদেরকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। বিশুদ্ধ খাবার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই জানিয়ে তারা জানায়, আমারকে খাওয়ানো হয় বেসিনে ব্যবহৃত পানি।

অপরদিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, নার্সিং ইন্সটিটিউটের একটি কক্ষে রাতের বেলায় অপরিচিত কেউর উপস্থিতি দেখেছে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসময় তাদের মধ্যে ভূত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে মানসিকভাবে অনেকেই ভেঙ্গে পড়ে।

এতোকিছুই যখন হোষ্টেলটির ইনচার্জ রীতা রানী বড়ুয়াকে জানানো হয়,তখনই তিনি ক্ষেপে গিয়ে মেয়েদের সাথে রাস্তার মেয়ে, বস্তির মেয়েছেলেসহ নানা ধরনের দূর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেছে শিক্ষানবীস নার্সদের বেশ ক’জন।

এদিকে রাতে হাসপাতালে উপস্থিত রাঙামাটি নার্সিং ইন্সটিটিউট এর ইনচার্জ রীতা রানী বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসলে প্রচন্ড গরমের কারনেই তানিয়া অসুস্থ হয়েছে। তিনি বলেন, আমি নিজেও এই গরমে অনেকটা ধরাশায়ী হয়েগেছি। তিনি জানান, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

এরআগে বুধবার রাঙামাটির সিভিল সার্জন শিক্ষানবীস নার্সদের বিক্ষোভ থামাতে হাজির হয়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করে।

এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, মেয়েটি চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হিমোরেজিক ষ্টোকে মারা গেছে এবং এটি সিটিস্ক্যান রিপোর্টেও উল্লেখ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর আগে আমাকে কেউ এতোসব অভিযোগের ব্যাপারে জানায়নি।

আমি আগামী ১৩ই মে তারিখ এদের সাথে আবারো বসবো। সেসময় আমার দ্বারা সম্ভব দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করবো। যেগুলো আমি পারবো না, সেগুলো আমার উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে আমি বাস্তবায়নের জন্য পাঠাবো।


আরোও সংবাদ