অঙ্গিকার ছিল দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন

প্রকাশ:| শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ১০:১১ অপরাহ্ণ

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন তার চিন্তা-চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের আর্দশকে ধারণ করেছিলেন বলেই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা।

অঙ্গিকার ছিল দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নশনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের বিদায় উপলক্ষ্যে এ সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড।

সভায় জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প কোন পথে দেশেরর সমৃদ্ধি ও মর্যাদা  প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

বিগত সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডের সাথে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ করতে না পারলে জাতি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হবে। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালবাসা সর্বোপরি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধের ঝাঁপিয়ে পড়ার গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রস্তুত করতে হবে।

জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দারিদ্র নির্মূলের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি গণমুখী প্রশাসন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আগামী প্রজন্মকে দেশের ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, তাদের ত্যাগ ও অবদানের কারণেই আজকে আমরা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে ঠাই করে নিতে পেরেছি।

প্রধান অতিথি শংকর রঞ্জন সাহা তার বক্তব্যে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনকে একজন সৎ, ত্যাগী, কর্মনিষ্ঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা উল্লেখ করে বলেন, মেজবাহ উদ্দিন চাকরি জীবনে যখনই যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানে অত্যন্ত, সুনাম ও মর্যদার সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

মেজবাহ উদ্দিনকে দেশের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসকের মর্যাদা প্রদান করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মেজবাহ উদ্দিনকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসকের মর্যাদা দান করায় প্রশাসন তাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব পালনে উজ্জীবিত হবে।

জেলা কমান্ডার মো. সাহাব উদ্দিন তার বক্তব্যে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনকে একজন শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা উল্লেখ করে বলেন, সারা জীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের কারিগর হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে মু্িক্তযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শত ব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত থেকে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেছেন।

একজন সৎ, ত্যাগী কর্মনিষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে মেজবাহ উদ্দিনকে চট্টগ্রামবাসী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেজবাহ উদ্দিন যেখানেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করুক না কেন, সেখানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখবেন, সমৃদ্ধ করবেন এবং একটি কল্যাণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লারের সভাপতি কলিম সরওয়ার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. অনুপম সাহা, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হক চৌধুরী বাবুল, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, রাঙ্গামাটি জেলা কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, জেলা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মাহবুবুল আলম চৌধুরী, মীরসরাই উপজেলা কমান্ডার কবির আহমদ, সাতকানিয়া উপজেলা কমান্ডার আবু তাহের প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।